খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
ময়মনসিংহ নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উত্তেজনাকে কেন্দ্র  করে দুই কথিত মাদক আস্তানায় এলাকাবাসীর হামলার ঘটনা নিয়ে একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িঘরে একাধিকবার চুরি ও সর্বশেষ রাতভর হামলা, ভাঙচুর এবং মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদকবিরোধী স্থানীয় ক্ষোভ ও দুই কথিত মাদক আস্তানায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের  বাড়িঘরে হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্য ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং আশেপাশের বাড়ীঘর ও দোকানে ভাঙচুরের হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাতভর আতঙ্কের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাদকবিরোধী ক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা বিরাজমান। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনবাগ, সাতঘরিয়াপাড়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি বাসাবাড়িতে চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা দেখা যায় কথিত মাদক স্পটগুলোতে। এ কারণে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথিত মাদক আস্তানায় স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে হামলা, ভাঙচুর কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিষয়টি আড়াল করে পরবর্তী হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে সামনে এনে মূল বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী ক্ষোভ কেন তৈরি হয়েছিল? কথিত মাদক স্পটগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলত? এবং স্থানীয়রা কেন সেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন? এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলেও সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেপা দিয়েছে। 
একজন সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, কোনো সংবাদ প্রকাশ বা কোনো ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকের অবস্থান পছন্দ না হলে তার জবাব হতে পারে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ কিংবা আইনি প্রক্রিয়া; কিন্তু কোনোভাবেই হামলা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মাধ্যমে সংবাদকর্মীকে চাপে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 
সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্হানীয়রা এলাকাবাসী বলছেন, মাদক ব্যবসা কিংবা কথিত মাদক আস্তানার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, অভিযোগের স্থানগুলো পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।তাদের দাবি, আকুয়া সহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হলেও কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই কার্যকর ও টেকসই পথ।একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ এবং এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ উভয় বিষয়েই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলার ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
advertisement
advertisement

রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাস্তবে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে অবহিত করতে হবে। তবে সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর লালকুঠি রোডের একটি হোটেলের সভাকক্ষে হেকস/ইপারের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, সংবিধানে বৈষম্যের কোনো বিধান নেই। অথচ নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পার্থ বোস এবং হেকস/ইপার কান্ট্রি অফিসের পার্টনারশিপ ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার লাভলীহুড ভুপেশ রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্ল্যাটফর্মের আব্দুল বাতেন। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন হেকস-ইপারের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা পাপন কুমার সরকার। সম্মেলনে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এই ছয় জেলার ১৬টি উপজেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। দিনব্যাপী সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী সাহা, দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু, রংপুর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের মনিলাল দাস, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট ইমরান, কুড়িগ্রামের সরবী বালা, লালমনিরহাটের সুপেন দত্ত, নীলফামারীর ছবি দাস, আব্দুল জব্বার, শীষ রহমান, দিনাজপুরের এডওয়ার্ড হেমরম, রংলাল বাসফোর, আলবিনুস টুডু, অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, শিউলী বাড়া, অজয় বাসফোর, রংপুরের শ্যামল টুডু, প্রদীপ গোস্বামী, উৎপল মিনঝি, কাতরীনা রিনি মিনঝি, সুশান্ত ভৌমিক, ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রান্সিস বাস্কে, সৈয়দপুরের রেজাউল হকসহ অন্যরা। সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে প্ল্যাটফর্মগুলোর ২০২৬ সালের গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক রাজু বাসফোরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া আদিবাসী নারীদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ আয়োজনের জন্য দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

The post রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে। যাদের মাত্র ৩-৫ টি গরু বা শতাধিক হাঁস-মুরগি আছে তারাই যেন এই উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে সরকার সার্বিকভাবে সহযোগীতা করবে। এতে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভবান হওয়ার সাথে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের কর্তব্য। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটা বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহবান জানান। সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বস্তরের যুব সমাজকে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে বলেন। এসময় বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে সরকারি ঋণ বাবদ জেলার ৫ জন উদ্যোক্তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার করে মোট সাড়ে ৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন। একইসাথে গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের বায়োগ্যাস প্লান্টের সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিলগির আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা,উপজপলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হায়াত আলী জাফরী,বিএনপি সহ সভাপতি এস এম ওবায়দুর রহমান সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি এবং যুব উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঋণের চেক প্রাপ্ত উদ্যোক্তরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম এবং জলঢাকার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমিনুর রহমানের স্ত্রী মমতা ইয়াসমিন, ডাউয়াবাড়ির মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব হোসেন, খারিজা গোলনার ওলিয়ার রহমানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ও কালকেউট মীরগঞ্জের মোশফিকুর রহমানের ছেলে বকুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুবক যুবতিরা হলো দেশের অন্যতম সম্পদ। এই সম্পদকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রায় ৮৩ টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টও সেই উদ্যোগের প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোক্তার মতো সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে এধরনের আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। এই প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে প্লান্ট গড়ে উঠলে গ্যাস ও সারের মতো বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও সহযোগিতা হবে। এতে উদ্যোক্তারা নিজেরা কর্মসংস্থান পেয়ে ও অন্যদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিয়ে উপকার করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে খেলার মাঠ করতে চায়। সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে যে স্টেডিয়ামগুলো আছে সেগুলো আধুনিকায়ন করে খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যাতে যুব সমাজ মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের সুযোগ পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধূলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে। যুব সমাজকে চলমান বিশ্বের সাথে উপযোগী করে গড়তে আমরা ফ্রিল্যান্সিং এ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্য এআই সহ প্রযুক্তিগত সব বিষয়ের উৎকর্ষ সাধনে প্রশিক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। সেই সাথে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ্য করে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এর সুফল পাবে।

The post সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার এইচএসসি ফলাফল নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮ জেলার মধ্যে নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রযেছে। এ জেলার পাশের হার ৪৯ দশমিক ৯২ ভাগ। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ জেলায় মোট ১৩ হাজার ৫৭৯জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ৭৭৯জন। পাশের হার ৪৯ দশমিক ৯২ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১জন। জেলায় পাশের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। অপরদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। ৭ হাজার ১৮৭ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩ হাজার ৯০০জন। মেয়েদের পাশের হার ৫৪ দশমিক ২৬ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৪ জন। যার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬ দশমিক ৭৭ ভাগ। অপরদিকে জেলায় এবার ৬ হাজার ৩৯২জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২ হাজার ৮৭৯ জন। যার পাশের হার ৪৫ দশমিক ০৪ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৭ জন। ছেলেদের জিপিএ প্রাপ্তির হার ১০ দশমিক ৩২ ভাগ। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এ বোর্ডের অধীনে ৮ জেলার মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ ভাগ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩জন। ওই ৮ জেলার মধ্যে পাশের হারে প্রথম স্থানে রয়েছে রংপুর জেলা। এ জেলার মোট ২৩ হাজার ৭৫২জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৩ হাজার ৩৩০জন। পাশের হার ৫৬ দশমিক ১২ ভাগ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৭৬ জন। তৃতীয় অবস্থানে রযেছে লারমনিরহাট জেলা। এ জেলায় ৭ হাজার ৪৫৫জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩ হাজার ৪৮২জন। পাশের হার ৪৬ দশমিক ৭১ ভাগ। জিপিএ- পেয়েছে ১০২জন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলায় ৯ হাজার ৮৫৭জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৪ হাজার ৪৩৯জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৮জন। দিনাজপুর জেলা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। এ জেলায় ২২হাজার ৯১০জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১০ হাজার ৪০জন। পাশের হার ৪৩ দশমিক ৮২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৬জন। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। এ জেলায় ১১ হাজার ৭২২জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৪ হাজার ৭৭৩জন। পাশের হার ৪০ দশমিক ৭২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৬জন। সপ্তম অবস্থানে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা। এ জেলায় ১৫ হাজার ৫৩৯জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ২৯জন। পাশের হার ৩৮ দশমিক ৮০ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৩জন। অষ্টম অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা। এ জেলায় ৬ হাজার ৯৭৩জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২হাজার ৫২৬জন। পাশের হার ৩৬ দশমিক ২৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বের্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।

The post দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার এইচএসসি ফলাফল নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.