খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি :

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরে প্রেমিক মিশন ইসলামের হাতে খুন হন ডলি আক্তার (৩০)। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও লাশ গুম করতে বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার।

তিনি জানান,নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিফকেসের ভেতর ও বস্তায় রাখা এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

পরে অজ্ঞাত নারীর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সোর্সের সমন্বয়ে শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান। তদন্তের একপর্যায়ে শনাক্ত হয় নিহত নারীর পরিচয়। একই সঙ্গে উন্মোচিত হয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।

পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশনের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে।

পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। এরপর লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়। মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করে। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বটি দা দিয়ে কোমর থেকে লাশটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়। পরে মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনে। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করে।

পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এবং সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভবানীপুর এলাকায় যায়। ভবানীপুর ব্রিজ এলাকা থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেয়।

এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চায় সে। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানায়, সেখানে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে।

১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। কিন্তু পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে। অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। পিবিআই গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় তারই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না এবং উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
advertisement
advertisement

রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাস্তবে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে অবহিত করতে হবে। তবে সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর লালকুঠি রোডের একটি হোটেলের সভাকক্ষে হেকস/ইপারের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, সংবিধানে বৈষম্যের কোনো বিধান নেই। অথচ নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পার্থ বোস এবং হেকস/ইপার কান্ট্রি অফিসের পার্টনারশিপ ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার লাভলীহুড ভুপেশ রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্ল্যাটফর্মের আব্দুল বাতেন। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন হেকস-ইপারের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা পাপন কুমার সরকার। সম্মেলনে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এই ছয় জেলার ১৬টি উপজেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। দিনব্যাপী সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী সাহা, দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু, রংপুর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের মনিলাল দাস, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট ইমরান, কুড়িগ্রামের সরবী বালা, লালমনিরহাটের সুপেন দত্ত, নীলফামারীর ছবি দাস, আব্দুল জব্বার, শীষ রহমান, দিনাজপুরের এডওয়ার্ড হেমরম, রংলাল বাসফোর, আলবিনুস টুডু, অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, শিউলী বাড়া, অজয় বাসফোর, রংপুরের শ্যামল টুডু, প্রদীপ গোস্বামী, উৎপল মিনঝি, কাতরীনা রিনি মিনঝি, সুশান্ত ভৌমিক, ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রান্সিস বাস্কে, সৈয়দপুরের রেজাউল হকসহ অন্যরা। সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে প্ল্যাটফর্মগুলোর ২০২৬ সালের গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক রাজু বাসফোরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া আদিবাসী নারীদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ আয়োজনের জন্য দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

The post রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে। যাদের মাত্র ৩-৫ টি গরু বা শতাধিক হাঁস-মুরগি আছে তারাই যেন এই উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে সরকার সার্বিকভাবে সহযোগীতা করবে। এতে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভবান হওয়ার সাথে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের কর্তব্য। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটা বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহবান জানান। সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বস্তরের যুব সমাজকে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে বলেন। এসময় বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে সরকারি ঋণ বাবদ জেলার ৫ জন উদ্যোক্তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার করে মোট সাড়ে ৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন। একইসাথে গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের বায়োগ্যাস প্লান্টের সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিলগির আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা,উপজপলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হায়াত আলী জাফরী,বিএনপি সহ সভাপতি এস এম ওবায়দুর রহমান সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি এবং যুব উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঋণের চেক প্রাপ্ত উদ্যোক্তরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম এবং জলঢাকার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমিনুর রহমানের স্ত্রী মমতা ইয়াসমিন, ডাউয়াবাড়ির মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব হোসেন, খারিজা গোলনার ওলিয়ার রহমানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ও কালকেউট মীরগঞ্জের মোশফিকুর রহমানের ছেলে বকুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুবক যুবতিরা হলো দেশের অন্যতম সম্পদ। এই সম্পদকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রায় ৮৩ টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টও সেই উদ্যোগের প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোক্তার মতো সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে এধরনের আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। এই প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে প্লান্ট গড়ে উঠলে গ্যাস ও সারের মতো বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও সহযোগিতা হবে। এতে উদ্যোক্তারা নিজেরা কর্মসংস্থান পেয়ে ও অন্যদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিয়ে উপকার করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে খেলার মাঠ করতে চায়। সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে যে স্টেডিয়ামগুলো আছে সেগুলো আধুনিকায়ন করে খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যাতে যুব সমাজ মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের সুযোগ পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধূলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে। যুব সমাজকে চলমান বিশ্বের সাথে উপযোগী করে গড়তে আমরা ফ্রিল্যান্সিং এ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্য এআই সহ প্রযুক্তিগত সব বিষয়ের উৎকর্ষ সাধনে প্রশিক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। সেই সাথে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ্য করে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এর সুফল পাবে।

The post সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার এইচএসসি ফলাফল নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ৮ জেলার মধ্যে নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রযেছে। এ জেলার পাশের হার ৪৯ দশমিক ৯২ ভাগ। শনিবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ জেলায় মোট ১৩ হাজার ৫৭৯জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ৭৭৯জন। পাশের হার ৪৯ দশমিক ৯২ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১জন। জেলায় পাশের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। অপরদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হারে এগিয়ে রয়েছে ছেলেরা। ৭ হাজার ১৮৭ জন মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩ হাজার ৯০০জন। মেয়েদের পাশের হার ৫৪ দশমিক ২৬ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬৪ জন। যার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৬ দশমিক ৭৭ ভাগ। অপরদিকে জেলায় এবার ৬ হাজার ৩৯২জন ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২ হাজার ৮৭৯ জন। যার পাশের হার ৪৫ দশমিক ০৪ ভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৭ জন। ছেলেদের জিপিএ প্রাপ্তির হার ১০ দশমিক ৩২ ভাগ। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এ বোর্ডের অধীনে ৮ জেলার মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ ভাগ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩জন। ওই ৮ জেলার মধ্যে পাশের হারে প্রথম স্থানে রয়েছে রংপুর জেলা। এ জেলার মোট ২৩ হাজার ৭৫২জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১৩ হাজার ৩৩০জন। পাশের হার ৫৬ দশমিক ১২ ভাগ। জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৭৬ জন। তৃতীয় অবস্থানে রযেছে লারমনিরহাট জেলা। এ জেলায় ৭ হাজার ৪৫৫জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৩ হাজার ৪৮২জন। পাশের হার ৪৬ দশমিক ৭১ ভাগ। জিপিএ- পেয়েছে ১০২জন। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলায় ৯ হাজার ৮৫৭জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৪ হাজার ৪৩৯জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ০৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৮জন। দিনাজপুর জেলা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। এ জেলায় ২২হাজার ৯১০জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১০ হাজার ৪০জন। পাশের হার ৪৩ দশমিক ৮২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭৬জন। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। এ জেলায় ১১ হাজার ৭২২জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৪ হাজার ৭৭৩জন। পাশের হার ৪০ দশমিক ৭২ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৬জন। সপ্তম অবস্থানে রয়েছে গাইবান্ধা জেলা। এ জেলায় ১৫ হাজার ৫৩৯জন পরীক্ষায অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৬ হাজার ২৯জন। পাশের হার ৩৮ দশমিক ৮০ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৩জন। অষ্টম অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা। এ জেলায় ৬ হাজার ৯৭৩জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২হাজার ৫২৬জন। পাশের হার ৩৬ দশমিক ২৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বের্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিৎ করেছেন।

The post দিনাজপুর বোর্ডের ৮ জেলার এইচএসসি ফলাফল নীলফামারী জেলা পাশের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.