খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিকীকরণ: প্রকৃত ন্যায়বিচারের পথে বাধা, মন্তব্য রুমিন ফারহানার

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিকীকরণ: প্রকৃত ন্যায়বিচারের পথে বাধা, মন্তব্য রুমিন ফারহানার

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন রুমিন ফারহানা। রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ৪ জুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে 'রাজনীতিকরণের এক ধ্রুপদী দৃষ্টান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রতিটি অপরাধের যন্ত্রণা, কষ্ট এবং এর প্রভাব সমান হলেও, কিছু ঘটনা অতিরিক্ত আলোচনা লাভ করে এবং সেগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়, যা প্রকৃত ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে 'আর না+' নামক নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী নাগরিক উদ্যোগের আয়োজনে এক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। ঈদুল আজহার পূর্বে গত ২৪ মে শাহবাগে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল।

রুমিন ফারহানা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, গত এক মাসে অন্তত ১১৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশ ভুক্তভোগীই শিশু। তবে, পল্লবীর ঘটনাটিকে এতটাই রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হয়েছে যে, কেবল দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাই ঘটনাস্থলে যাননি, এমনকি ভুক্তভোগী শিশুর বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেও দুই দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘটনার পর আরও অনেক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও সেগুলোতে এমন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। তার মতে, বিচারের আওতায় আনতে হলে কোনো ঘটনাকে অতি আলোচিত হতে হবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করতে হবে এবং ব্যাপক জনআলোচনা তৈরি হতে হবে—তবেই রাজনৈতিক মহলের টনক নড়বে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই প্রবণতাকে তিনি 'চেরি-পিকিং' আখ্যা দিয়ে বলেন, ১০০টি ঘটনার মধ্যে একটি অতিরিক্ত মনোযোগ পায়, বাকি ৯৯টি হারিয়ে যায়। তিনি সতর্ক করে দেন যে, যতদিন পর্যন্ত ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হবে এবং রাজনৈতিকভাবে বিচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত সত্যিকারের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

আলোচনায় সুস্থ যৌনশিক্ষা বিষয়ক সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমরা দেখি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র; অনেক ঘটনা কখনোই প্রকাশ্যে আসে না। এ বিষয়ে পরিবারকেও সচেতন হতে হবে। শিশুদের 'ভালো স্পর্শ' ও 'খারাপ স্পর্শ' সম্পর্কে শেখানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বুঝতে হবে যে, যৌন হয়রানি অন্যান্য অপরাধের মতোই একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধের জন্য দায়ী কেবল অপরাধী, ভুক্তভোগী নন। এই শিক্ষা ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই পরিবার থেকে দিতে হবে, অর্থাৎ সচেতনতা পরিবারের ভেতর থেকেই তৈরি হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এই সচেতনতা পরিবার থেকে শুরু হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়া দরকার।

ধর্ষণের ঘটনায় আপস-মীমাংসার চেষ্টার প্রবণতা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগ যদি আরও সক্রিয়, নারীবান্ধব ও ভুক্তভোগীবান্ধব হয়, তবে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ ও উন্নত হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা মুশফিক উস সালেহীন গোলটেবিল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন চিকিৎসক ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমা, নেটওয়ার্ক ফল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্লাস্টের কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এবং প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক।

advertisement
advertisement

‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেই জান্নাত’ মন্তব্য করে আলোচিত হাফিজ উল্লাহ লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নতুন আমির

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলেই জান্নাত’ মন্তব্য করে আলোচিত হাফিজ উল্লাহ লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের নতুন আমির

এ আর হাফিজ উল্যাহ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল এসেছে। সংগঠনটির নতুন আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এ আর হাফিজ উল্লাহ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, জান্নাত অবধারিত’ বলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার রাতে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। আগামী দুই বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন হাফিজ উল্লাহ, যিনি আগে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারের সময় ভোটারদের প্রতি দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য ব্যাপকভাবে বিতর্কের সৃষ্টি করে। ওই বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন; আপনারা কী কী কারণে সওয়াবের ভাগী হবেন—এই দেওয়ার কারণে, আপনারা আল্লাহর পক্ষে দিছেন, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দিছেন; আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত। আর আমি বলি, যারা পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দিবে, তারা গুনাহগার হবে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচনে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহারের দায়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তৎকালীন সময়ে প্রথম আলোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হাফিজ উল্লাহ বলেছিলেন, ‘এমন কোনো বক্তব্য আমি দিয়েছি কি না, তা আমার মনে নেই। তবে ভুল করে মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারি। আবার অনেক সময় আমার বক্তব্য খণ্ডিতভাবেও উপস্থাপন করা হয়।’

নতুন করে জেলা আমিরের দায়িত্ব লাভ করার পর আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় এ আর হাফিজ উল্লাহ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে জেলা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাব।’

রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, সংবিধানে সবার সমান অধিকারের কথা বলা হলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বাস্তবে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি বলেন, বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে। সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে অবহিত করতে হবে। তবে সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রংপুর নগরীর লালকুঠি রোডের একটি হোটেলের সভাকক্ষে হেকস/ইপারের আয়োজনে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের রংপুর বিভাগের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, সংবিধানে বৈষম্যের কোনো বিধান নেই। অথচ নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পার্থ বোস এবং হেকস/ইপার কান্ট্রি অফিসের পার্টনারশিপ ম্যানেজার ও সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার লাভলীহুড ভুপেশ রায়। ধারণাপত্র পাঠ করেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা প্ল্যাটফর্মের আব্দুল বাতেন। সম্মেলন সঞ্চালনা করেন হেকস-ইপারের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা পাপন কুমার সরকার। সম্মেলনে রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এই ছয় জেলার ১৬টি উপজেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অংশ নেন। দিনব্যাপী সম্মেলনে প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। মুক্ত আলোচনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে বক্তব্য দেন রংপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা মঞ্জুশ্রী সাহা, দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু, রংপুর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের মনিলাল দাস, ঠাকুরগাঁওয়ের অ্যাডভোকেট ইমরান, কুড়িগ্রামের সরবী বালা, লালমনিরহাটের সুপেন দত্ত, নীলফামারীর ছবি দাস, আব্দুল জব্বার, শীষ রহমান, দিনাজপুরের এডওয়ার্ড হেমরম, রংলাল বাসফোর, আলবিনুস টুডু, অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, শিউলী বাড়া, অজয় বাসফোর, রংপুরের শ্যামল টুডু, প্রদীপ গোস্বামী, উৎপল মিনঝি, কাতরীনা রিনি মিনঝি, সুশান্ত ভৌমিক, ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রান্সিস বাস্কে, সৈয়দপুরের রেজাউল হকসহ অন্যরা। সম্মেলনে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে প্ল্যাটফর্মগুলোর ২০২৬ সালের গৃহীত কার্যক্রমের পর্যালোচনা এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নতুন কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সম্পাদক রাজু বাসফোরের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ ছাড়া আদিবাসী নারীদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ আয়োজনের জন্য দিনাজপুর জেলা অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের সভাপতি চিত্ত ঘোষকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

The post রংপুর বিভাগে অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.

সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে

joybanglanewsbangladesh
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে। যাদের মাত্র ৩-৫ টি গরু বা শতাধিক হাঁস-মুরগি আছে তারাই যেন এই উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে সরকার সার্বিকভাবে সহযোগীতা করবে। এতে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভবান হওয়ার সাথে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের কর্তব্য। বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন। তিনি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটা বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহবান জানান। সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশের সর্বস্তরের যুব সমাজকে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে বলেন। এসময় বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে সরকারি ঋণ বাবদ জেলার ৫ জন উদ্যোক্তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার করে মোট সাড়ে ৭ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন। একইসাথে গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালিয়ে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের বায়োগ্যাস প্লান্টের সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের উপ পরিচালক বিলগির আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা,উপজপলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হায়াত আলী জাফরী,বিএনপি সহ সভাপতি এস এম ওবায়দুর রহমান সহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি এবং যুব উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঋণের চেক প্রাপ্ত উদ্যোক্তরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী নিলুফা বেগম এবং জলঢাকার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমিনুর রহমানের স্ত্রী মমতা ইয়াসমিন, ডাউয়াবাড়ির মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সোহরাব হোসেন, খারিজা গোলনার ওলিয়ার রহমানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ও কালকেউট মীরগঞ্জের মোশফিকুর রহমানের ছেলে বকুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুবক যুবতিরা হলো দেশের অন্যতম সম্পদ। এই সম্পদকে কার্যকর ভাবে কাজে লাগাতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে কাজ করছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রায় ৮৩ টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টও সেই উদ্যোগের প্রতিফলন। আজকের এই উদ্যোক্তার মতো সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে এধরনের আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজ উন্নয়ন মূলক কার্যক্রমে। তাহলেই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন হচ্ছে। এই প্লান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ঘরে ঘরে প্লান্ট গড়ে উঠলে গ্যাস ও সারের মতো বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও সহযোগিতা হবে। এতে উদ্যোক্তারা নিজেরা কর্মসংস্থান পেয়ে ও অন্যদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিয়ে উপকার করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। যা দেশপ্রেমিক নাগরিকের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একটা করে খেলার মাঠ করতে চায়। সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে যে স্টেডিয়ামগুলো আছে সেগুলো আধুনিকায়ন করে খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। যাতে যুব সমাজ মাদকসহ সকল অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে পারে এবং ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের সুযোগ পেয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধূলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারে। যুব সমাজকে চলমান বিশ্বের সাথে উপযোগী করে গড়তে আমরা ফ্রিল্যান্সিং এ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। এজন্য এআই সহ প্রযুক্তিগত সব বিষয়ের উৎকর্ষ সাধনে প্রশিক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাতে দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারে। সেই সাথে আগামী প্রজন্মকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ্য করে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত শিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এর সুফল পাবে।

The post সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জ্বালানী সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে appeared first on দৈনিক নীলফামারী বার্তা.